হযরত উয়ায়েছ করণী বারগাহে রাসূলﷺহতে “উয়ায়েছী তরিকাহ্”

হযরত খাওয়াজা উয়ায়েছ করণী( রহঃ) বারগাহে রাসূল মক্কার দক্ষিনে ইয়েমেন প্রদেশের করণ নামক অঞ্চলে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আল্লাহর রাসূলের অনুসারীদের (তাবেঈনদের) মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। খাজা সাহেব বৃদ্ধ মাতার সেবা শুশ্রুষার জন্য অন্য কেহ না থাকায় তিনি মাতাকে একা রাখিয়া রাসূলের দরবারে হাযির হতে পারেন নাই। যদিও একবার মাতার অনুমতিক্রমে রাসূলের সংগে দেখা করতে আসেন কিন্তু রাসূল বাড়ী না থাকায় তাঁহার সংগে দেখা হয় নাই। বিলম্ব না করে মাতার আদেশ মুতাবিক তাহার খেদমতে ফিরিয়া যান।

হিজরী ৩ সনের ৭ই শাওয়াল (জানুয়ারী ৬২৫) ওহুদের যুদ্ধে রাসূলের দাঁত মুবারক শহীদের সংবাদে খাজা সাহেব বিচলিত হয়ে পড়েন এবং কতনা দুঃখ, কতনা ব্যথা আল্লাহর রাসূল পাইয়াছেন মনে করে ভাবাবেগে উম্মত্ত হয়ে একটি একটি করে সবগুলি দাঁতই ভাংগিয়া ফেলেন। তিনি রাসূলের আর্দশে অনুপ্রাণিত, রাসূলের ভাবে ভাবী, রাসূলের জ্ঞানে জ্ঞানী এবং আল্লাহর একত্বে অটল বিশ্বাসী ছিলেন। আল্লাহর রাসূল খাজা সাহেবের এই জ্ঞান মহত্ব ও মহব্বতের স্বীকৃতি সরূপ তাঁহার গায়ের খিরকা খাজা সাহেবকে এনায়েত করেন।

আধ্যত্মিক মতে হাদী ব্যক্তির গায়ের জামা (খিরকা) কাহাকেও প্রদান অর্থ তাহাকে (ব্যক্তি) তাঁহার (হাদী) তরীকী শিক্ষা প্রচারের খলিফা নিয়োগ। রাসূলুল্লাহ হযরত খাজা উয়ায়ছ করণীকে তাঁহার আধ্যাত্মিকতা প্রচারের বাতেনী খিলাফত দান করিলেন। যেহেতু হযরত আলী (আঃ) রাসূলের হেকমত বিদ্যার দরজা তাই তিনি তাঁহার (আলী) খিলাফত আমলে উষ্টের যুদ্বের পূর্বে কুফার নিকট যিকর নামক স্থানে প্রকাশ্যে হযরত আলী (আঃ) এর নিকট তরীকতী বাইয়াত  গ্রহণ করেন । তরীকা প্রচারে যাহেরী খিলাফত লাভ করেন ।

পরবর্তী কালে আমীর মাবিয়ার সংগে হযরত আলী (আঃ) এর সিফফীন নামক স্থানে যুদ্ধে খাজা সাহেব বৃদ্ধ বয়সে তাহার মুরশিদের পক্ষে অর্থাৎ হযরত আলী (আঃ) এর পক্ষে এবং মাবিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধ করিয়া ৮ই সফর দিবাগত ৯ই সফর রাতে শহীদ হন। সিফফীন ময়দানের পাশেই তাঁর মাজার এখন ‘মকাম-ই-উয়ায়েছ’ নামে খ্যাত।

এই রাত্রীই বিখ্যাত ও পবিত্র ‘লায়লাতুল হারীর’ নামে খ্যাত ।

তাপসকুল শিরোমণি হযরত উয়ায়স করনীর শ্রেষ্টত্ব সম্বন্ধে আল্লাহর রাসুলের হাদীসের কয়েকটি বাংলা তরজমা সংযোজন করা হইল।

  1. হযরত ওমর (রা.) বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলিতে শুনিয়াছি, নিশ্চয়ই, অনুগতদিগের(খায়রুত্তাবেয়ীন) মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যাহার নাম উয়ায়ছ। তাহার মা আছে এবং তাহার শরীরে একটি শ্বেত চিহ্ন আছে। তোমরা (তাহার সংগে দেখা করিয়া) অনুরোধ করিবে যেন সে তোমাদের ক্ষমার জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে। (মুসলিম শরীফ ৬২৬০/ মিশকাত ৬০০৬)
  2. হযরত উমর বিন খাত্তাব হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূলﷺ বলিয়াছেন, “নিশ্চয়ই ইয়েমেন হইতে তোমাদের নিকট এক লোক আসিবে যে উয়ায়ছ নামে অবিহীত। সে তাহার মাতার জন্য ইয়েমেন ত্যাগ করিতে পারে না। তাহার শরীরে শ্বেত রোগ ছিল। সে আল্লাকে ডাকিল, তাহার শ্বেত রোগ এক দিরহাম পর্যন্ত ব্যতীত দূর হইয়া গেল। তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাহার সাক্ষাত পাও তাহাকে অনুরোধ করিবে যেন সে তোমাদের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে । (মুসলিম শরীফ ৬২৫৯/ মিশকাত শরীফ ৬০০৬)
  3. রাসূলল্লাহ হযরত ওমরকে বলিলেন, উয়ায়ছ ইবনে আমর মুজাহিদগণের সাহায্যার্থে আগমনকারী ইয়েমেনবাসীদের সহিত তোমাদের নিকট  আসিবে। সে মুজার গোত্রের কারণ শাখার অন্তর্ভুক্ত। তাহার ধবল রোগ ছিল। (আল্লাহর নিকট দোয়া করিবার কারণে) এক দিরহাম পরিমান স্থান ব্যতীত সে উহা হইতে আরোগ্য লাভ করে। তাহার মাতা আছে। সে তাহার মাতার সহিত সদ্ব্যবহার করে। সে আল্লাহর নিকট শপথ করিলে, আল্লাহ তাহা পূরণ করে। তাহার দ্বারা তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা করাইতে সক্ষম হইলে তাহা করাইবে। (মিশকাত শরীফ)
  4. রাসূলﷺ ফরমাইলেন, রাবী এবং মুজার গোত্রের মেষের পশম তুল্য লোক হযরত উয়ায়ছ করণীর শাফায়াতে বেহেশতে যাইবে। (মিশকাত শরীফ)
  5. হযরত আবি মাসউদ-উল-আনসারী হতে বর্নিতঃ রাসূল ﷺ বলেছেন, “আমার উম্মতের ভিতর এক ব্যক্তি, যাহাকে লোকে উয়ায়েছ ইবনে আবদুল্লাহ্ করণী বলে, তাহার প্রার্থনায় অবশ্যই রাবিয়া ও মুজার এই দুই গোত্রের বকরীর পশমের সংখ্যক গুনাহ্গার উম্মতের গুনাহ্ মাফ হইবে।” (শওয়াহেদুন-নবুওয়াত/মছনবী রহীম)

রাবী ও মুজা নামে আরবের দুইজন গোত্র প্রধান। তাহাদের অসংখ্য মেষ ছিল। সেই মেষ পালের পশম সমতুল্য লোক খাজা সাহেবের শাফায়েতে বেহেশতে যাইবে।

হযরত খাজা উয়ায়ছ করণী রাসূলের আত্মীক সংগী ও একান্ত অনুগত এবং অনুগতদের সর্ব প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি যে প্রার্থনা করে আল্লাহ তাহা কবুল করেন। আল্লাহ রাসূল চাহেন তাঁহার অনুসারীগণ যেন হযরত খাজা উয়ায়ছ করণী দ্বারা তাহাদের মুক্তি বা মঙ্গল মঞ্জুর করাইয়া লন। ফরিদ উদ্দীন আত্তরের তাজকিরাতুল আওলিয়া গ্রন্থে একটি হাদীসের উল্লেখ আছে যাহার ফারসী এবারতের বাংলা অর্থ, “তোমরা তাহার (উয়ায়ছ) পায়ের চিহ্নে পা রাখিয়া চল।”

তাবেঈন শ্রেষ্ঠ বা অনুসারী/অনুগতদের শ্রেষ্ঠ  হযরত খাজা উয়ায়ছ করণী (রহঃ) । আল্লাহ ও রাসূলের অনুসারী যারা ছিলেন বা আছেন তাদের মধ্যে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অনুসারী হচ্ছেন  হযরত খাজা উয়ায়ছ করণী(রহঃ)। তাঁর মাতৃভক্তি বিশ্বের মানুষের আদর্শ; তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা নজীরবিহীন।

তাপসকুল শ্রেষ্ঠ মাহবুবে রব্বানী খাজা হযরত উয়ায়ছ করণী বারগাহে রাসূলﷺ হইতে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দানের একটি তরীকাহ জারী আছে। অতএব,
(ক) নবীকুল শ্রেষ্ঠ ছাইয়েদেনা মাওলানা হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া আলা-আ-লেহি ওয়া সাল্লাম।
(খ) অলীকুল শ্রেষ্ঠ বেয়ায়েতের বাদশাহ হযরত আলী মর্তুজা (আঃ)
(গ) অনুগতদের মধ্যে সর্ব শ্রেষ্ঠ, সর্ব প্রথম পরী (আদী পীর) আশেকে রাসূল খাজা হযরত উয়ায়ছ করণী বারগাহে রাসূল ﷺ।

হযরত আলী (আঃ)  বেলায়েতের বাদশাহ আধ্যাত্মিক বিদ্যার তোরণ। আধ্যত্মিক বিদ্যা প্রচারের জন্য যে কয়েকজন খলিফা রাখিয়া যান তন্মধ্যে-

  •  হযরত ইমাম হাসান (আঃ)       — ইমাম
  •  হযরত ইমাম হোসাইন (আঃ)   — ইমাম
    ______________________________________
  • ১)  হযরত খাজা উয়ায়ছ করণী (রাঃ)  — প্রথম পীর (আদী পীর)
  • ২) হযরত খাজা হাসান বছরী (রাঃ)
  • ৩) হযরত খাজা আব্দুল্লাহ কোমায়েল বিন যায়েদ (রাঃ)
  • ৪) হযরত খাজা কাজী আবুল মেকদাম (রাঃ)
 হযরত খাজা উয়ায়ছ কারণী (রাঃ) হতে যে তরীকা জারী হয় এই উয়ায়েছী তরীকা নামে পরিচিত।

হযরত ইমাম হাসান (আঃ) এবং হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ) বিশ্বের মানুষের ইমাম। তাঁহারা পীর ছিলেন না। উপরের তালিকায় দেখা যাচ্ছে খাজা হযরত উয়ায়েছ করণী হচ্ছেন বিশ্বের প্রথম পীর অর্থ্যাৎ পীরগণের প্রথম। হযরত আলী (আঃ)’র প্রথম খলিফা। প্রনিধানযোগ্য যে, হযরত আলী (আঃ) এর খলিফাগণের দ্বারাই সারা বিশ্বের বিভিন্ন তারীকাহ্ প্রচারিত হয়েছে। পরবর্তীতে পীরগণের নামে বিভিন্ন তারিকাহর চালু হয়; যেমন-

১) খাজা হযরত উয়ায়েছ করণী হতেঃ উয়ায়েছী তরীকাহ্
২) খাজা হযরত হাসান বছরী  হতেঃ  বাছারীয়া তরীকাহ্

উল্লেখ্য যে, অন্যান্য সকল তরিকায় সময়ের বিবর্তনে মূল নামের বিলোপ সাধণ হয়েছে। নতুন নামে নতুন তরীকাহ্ হিসেবে চালু হয়েছে। কিন্তু একমাত্র ‘উয়ায়ছী তরীকাহ্’ মূল নামে অপরিবর্তীত হিসাবে বিশ্বে প্রচলিত আছে। 
হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী মরহুম তাঁহার ‘বাকিয়াতুস্ সালিহাত’ নামক কিতাবে ১৩২টি তরীকতী খান্দানের কথা উল্লেখ করেছেন। খান্দানের প্রথম নামটি তিনি কিন্তু “উয়ায়েছীয়া” উল্লেখ করেছেন এবং বুঝিয়াছেন আরও খান্দান থাকতে পারে। তার কারণ যেকোন পীরের খলীফা তার পীররে নামে নতুন খান্দান বা তরিকা প্রচলন করতে পারেন।  বাংলাদেশে প্রচলিত ৫টি তরীকার সময়ের ব্যবধান ও সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপঃ-

১) উয়ায়েছী তরীকাহ্ঃ

হযরত মুহম্মদ (ছাঃ)’র অত্যন্ত প্রিয় পাত্র, আধ্যাত্মিক জ্ঞান সমৃদ্ধ, নজিরবিহীন রাসূল প্রেমিক, রাসূলে মুহব্বতে নিজের সব দন্ত উৎপাটনকারী, মুর্শিদের প্রেমে নিজ জীবন উৎসর্গকারী, মা-বাবার খেদমতে পার্থিব সুখ-শান্তি বর্জনকারী, আল্লাহর প্রেমে সার্বক্ষণিক মশগুল ও উদাসীন হযরত খাজা উয়ায়েছ করণী (রহঃ) এর খলিফাগণ তাদের মুর্শিদের নামানুসারে “উয়ায়েছী” তরিকাহ্ চালু করে। সর্বপ্রথম প্রচার স্থল ইয়েমেন। খাজা হযরত উয়ায়েছ করণীর ওফাত হয়েছে ঈসায়ী ৬৫৭ সনের ২৬ জুলাই বুধবার। বয়সে রাসূলের চেয়ে প্রায় ২৫০ বছর বড় ছিলেন এবং রাসূলের সময় জীবিত ছিলেন। খাজা হযরত উয়ায়েছ করণীর মুর্শিদ মুহাম্মদ(ছাঃ) এবং হযরত আলী (আঃ)। তিনি ৬৩২ ঈসায় সনে হযরত আলী (আঃ) এর খিলাফত প্রাপ্ত হন এবং মুর্শিদ জীবিতকালীন সময়েই তিনি মুরিদ করেন। তার খলিফাদের মধ্যে হযরত হিশাম উদ্দিন ও হযরত জালাল উদ্দিন গুরগানী উল্লেখযোগ্য। উয়ায়েছী তরীকাহ্ প্রবর্তনের ৫০০/৫৫০ বছর পর অন্যান্য তরীকাহর আবির্ভাব ঘটে।

২) কাদেরীয়া তরীকাহ্ঃ

স্বয়ং রাসূলে খোদা (ছাঃ) হতে শুরু করে তরীকতি খিলাফত প্রাপ্ত সপ্তদশ পুরুষ হচ্ছেন শায়েখুল মাশায়েখ কুতুবুল আরিফিন সাইয়েদুল মওয়াহেদিন গাউসুল আজম হযরত খাজা শাহ মহীউদ্দীন আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর অনুসারীগণ তাদের মুর্শিদের নামানুসারে “কাদেরীয়া” তরিকাহ চালু করে। প্রচার শুরু হয় বাগদাদ থেকে। তাঁর জন্ম ১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ইরানে রাসূল (ছাঃ) ওফাতের ৪৪৫ বৎসর পর। বাগদাদেই তিনি ১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ওফাত পান এবং তাঁর পবিত্র মাজার এখানেই অবস্থিত। আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) –এর মুর্শিদের নাম খাজা শাহ্ আবুল খায়ের মুহাম্মদ (রহঃ)। কাদেরীয়া তরীকার অনেকগুলো উপ-তরিকাহ আছে।

 ৩) চিশতীয়া তরীকাহ্ঃ

হযরত খাজা শাহ্ আবু ইসহাক চিশতী (রহঃ) এর নামানুসার তাঁর অনুসারীগণ “চিশতিয়া” তরীকাহ জারী করে। তাঁর মুর্শিদের নাম খাজা শাহ্ মামশাদ উলভী দীলওয়ারী। এই চিশতী ছিলছিলার অর্থাৎ  খাজা শাহ্ আবু ইসহাক চিশতীর নিম্নতম ৭ম খলিফা হচ্ছেন খাজা হযরত গরীবে নেওয়াজ শাহ্ মঈন উদ্দীন চিশতী (রহঃ) । তাঁর জন্মস্থান ইরানে ১১৪২ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি ১১৮৩ খ্রিঃ দিল্লী আগমন করেন ও আজমীরে প্রচার কেন্দ্র স্থাপন করেন এবং ১২৩৬ খ্রিঃ এ আজমীরে ওফাত হন। কথিত আছে, তিনি ১১জন এর নিকট শিক্ষা-দীক্ষা নিয়েছিলেন।  তাঁর শেষ মুর্শিদ-এর নাম খাজা শাহ্ উছমান হারুনী চিশতী (রহঃ)।

৪) নকশবন্দিয়া তরীকাহ্ঃ

হযরত খাজা শাহ মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দ আল বুখারী (রহঃ) হতে “নকশবন্দিয়া” তরীকাহ্ চালু হয়েছে। তিনি ১৩১৭খ্রি. সনে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং এখানেই ওফাত প্রাপ্ত হন। তাঁর মুর্শিদ শায়েখুল মাশায়েখ হযরত সৈয়দ শামসুদ্দীন  আমীর কালাল (রহঃ)। তাঁর উর্দ্ধতন পীরগণ উয়ায়ছী তরিকার অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। নকশবন্দি অর্থ চিত্রকর। খাজা শাহ মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দ (রহঃ) সর্বদা‍  “আল্লাহ” নামের নকশা অংকন করতেন। তাই, তাকে নকশবন্দি খেতাবে ভূষিত করা হয়। তিনি রাছূল (ছাঃ) এর ৬৮৫ বছর পর আগমন করেন।

৫) মোজাদ্দেদীয়া তরীকাহ্ঃ

হযরত শায়েখ আহমদ ফরুকী সেরহিন্দী মুজাদ্দেদী আলফেসানী (রহঃ) হচ্ছেন এ তরিকার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি  মুঘল সম্রাট আকবর প্রজাদের খুশি করার উদ্দেশ্যে সৃষ্ট নতুন ধর্মমত ‘তাওহিদে এলাহি’ এর বিরোধিতা করেন। এ অনাচারের প্রতিবাদ করেন  হযরত শায়েখ মুহম্মদ মুজাদ্দেদী আলফেসানী (রহঃ) । হিজরী দ্বিতীয় সহস্রের প্রথম দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে তাকে দ্বিতীয় সহস্রের মোজাদ্দেদ বা সংস্কারক বলা হয়। এই নকশবন্দী তরিকারই সংস্কারকৃত রূপ। তাঁর মুর্শিদ ছিলেন হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ নকশবন্দ (রহঃ)। পীরের যথাযথ খেদমত করে তিনি খিলাফত লাভ করেন। রাসূল (ছাঃ) ওফতের ৯৩২ বৎসর পর। বাংলাশেদ-ভারতবর্ষে এ তরীকার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

চিন্তা করবেন? নাকি চিন্তা ছাড়বেন? পবিত্র কুরআন মাজিদে চিন্তা করার জন্য যত আয়াতসমূহঃ-

চিন্তা করবেন? নাকি চিন্তা ছাড়বেন?

পবিত্র কুরআন মাজিদে চিন্তা করার জন্য যত আয়াতসমূহ

শাহ্ আশেক মোরশেদ উয়ায়েছী

আল কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র চিন্তাকরার, জ্ঞানী হওয়ার তাগিদ এত বেশী দিয়েছেন যেখানে আল্লাাহ জ্ঞানী হওয়া বেশী পছন্দ করেন। সেখানে আমাদের কিছু আলেম উপধিগণ (এমনকি ভ্রান্ত পীরগণও) মানুষকে কেবল পড়া-পড়ির মধ্যে ও তছবী তিলওয়াতের মধ্যে সারা দিন-রাত নিমগ্ন থাকার উপদেশ দিয়ে বেড়ান এবং ঐগুলিকেই ইসলাম বলে হাজির করেন। অথচ রসূল (সাঃ) বলেছেন- এক মুহুর্ত জ্ঞান চর্চা বা জ্ঞান আলোচনা সারারাত এবাদতের সমান বা উত্তম। শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু হিসাবে কোরআন থেকে চিহ্নিত। সে এবাদত বন্দীগি সবার চেয়ে বেশী করেছিল। তাই সে ধার্মিক ছদ্মবেশেই ধোকা দিয়ে থাকে। কিন্তু জ্ঞানীলোক ব্যাতিত সকলেই শয়তানের ধোকায় পড়ে। তাই জ্ঞান সাধনাই জন্যই যত লেখা-যোখা। কিছু কথায় কারো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে কিন্তু তা জ্ঞান অন্মেষণের জন্যই। কারণে নেগেটিভ না থাকলে পজেটিভ এর ফলাফল পাওয়া যায় না। আর এই ফলাফলের জন্যই নেগেটিভ ও পজেটিভ উভয়টির প্রয়োজন। একটি আরবীয় প্রবাদ আছে যে, তুমি যদি ময়লা নিয়ে না ঘাট; তবে পরিশুদ্ধ হবে কিভাবে।

UwaiseeTorikah
UwaiseeTorikah

আমরা মুসলমান দাবীদারগণ কালেমার বলে মুসলমান। কালেমাতে সর্বজ্ঞানময় সর্বশক্তিমান স্রষ্টা ও সর্ব সৃষ্টির মূল যিনি সেই নূরে মুজাচ্ছাম রছুল (সাঃ) এর কথা লেখা আছে। এই কালেমার জ্ঞান যেমন পারলৌকিক কল্যাণ আনয়ন করে, তেমনি ইহকালিণ কল্যাণ আনয়ন করে। এই কালিমাতে যে নেগেটিভ ও পজেটিভ রয়েছে তাও জ্ঞানীদের জন্য চিন্তার বিষয়। কালেমাতে প্রথমেই নেগেটিভ রয়েছে যেমন- “লা ইলাহা অর্থাৎ নাই কোন ইলাহ” একথাকে নফি বা নেগেটিভ বলা হচ্ছে, তারপরই ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া” একথা কে এসবাত বা পজেটিভ বলা হচ্ছে। এই নেভেটিভ ও পজেটিভ মিলেই ফলাফল সৃষ্টি হয়; ত্ওাহিদ সৃষ্টি হয়। দেখুন আধ্যাত্মিক জগতের চমর শিখর পৌছে মানুষ নিজেকে খোদা দাবী করেছে। আধ্যাত্মিক জ্ঞানে জ্ঞানবান মনুসর হল্লাজ আধ্যাত্মিকতার সর্ব শিখরে পৌছে ‘আমি খোদা’ দাবী করেছেন বলে প্রচলিত (যদি কথাটি শরিয়তসম্মত নয়) তব্ওু এহেন কাজে সে আল্লাহর প্রিয় বান্দা বা অলী হয়ে আছেন। আবার অংহকারে নিমজ্জিত ফেরাউন ‘আমি খোদা’ দাবী করে অভিষপ্ত ও দোজখবাসী। তাই সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার নির্দেশ মত হতে হবে। একথা প্রনিধানযোগ্য যে. মানুষ খোদা নয়; খোদার গুনে গুনান্নিত হতে পারে।
কাজেই তারই নির্দেশেই-

‘‘ভুল হয় শুদ্ধ আর শুদ্ধ হয় ভুল;
এ নদীতে নৌকা বে’য়ে ভার পাওয়া কূল’’। – শাহ কছিমদ্দিন আহমদ উয়ায়েছী, (দেওয়ান গ্রন্থ)।

কুরআন মাজিদ সকলের জন্য হলেও মুত্তাকিনরাদের জন্য হেদায়েত। “যালিকাল কিতাবু লারাইবাফি হুদালিল মুত্তাকিন” অর্থ্যাৎ ঐ কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই মুত্তাকিনদের জন্য পথ প্রদর্শক (বাকারা:২)। কাজেই কিতাব সম্বন্ধে চিন্তাশীলদের জন্য চিন্তা করার জন্য আল্লাহ তায়ালার নির্দেশসমূহ আমি নিম্মে উল্লেখ করছি:-
(1) তারা কি চিন্তা করে না যে,তারা পুনরুত্থিত হবে। (Al-Mutaffifin: 4)
(2) সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। (Abasa: 37)
(3) আপনি তার চিন্তায় মশগুল। (Abasa: 6)
(4) সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে, (Al-Muddaththir: 18)
(5) যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি,যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। (Al-Hashr: 21)
(6) মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। (Al-Hashr: 18)
(7) আমি তোমাদের সমমনা লোকদেরকে ধ্বংস করেছি, অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (Al-Qamar: 51)
(8) আমি কোরআনকে বোঝবার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (Al-Qamar: 40)
(9) আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (Al-Qamar: 32)
(10) আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (Al-Qamar: 22)
(11) আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (Al-Qamar: 17)
(12) আমি একে এক নিদর্শনরূপে রেখে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (Al-Qamar: 15)
(13) আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। (Qaaf: 16)
(14) তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? (Muhammad: 24)
(15) আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না? (Al-Jaathiya: 23)
(16) এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (Al-Jaathiya: 13)
(17) নিশ্চয় যারা কোরআন আসার পর তা অস্বীকার করে, তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে। এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ। (Fussilat: 41)
(18) নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। (Fussilat: 30)
(19) তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন রুযী। চিন্তা-ভাবনা তারাই করে, যারা আল্লাহর দিকে রুজু থাকে। (Ghaafir: 13)
(20) আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (Az-Zumar: 42)
(21) যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান। (Az-Zumar: 9)
(22) সেখানে তারা আর্ত চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই। (Faatir: 37)
(23) বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র। (Saba: 46)
(24) আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (Ar-Room: 21)
(25) আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্নগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে। (An-Noor: 44)
(26) এখন তারা বলবেঃ সবই আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? (Al-Muminoon: 85)
(27) অতএব তারা কি এই কালাম সম্পক চিন্তা-ভাবনা করে না? না তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি? (Al-Muminoon: 68)
(28) এবং তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সমূহের মধ্যে চিন্তা করার বিষয় রয়েছে। আমি তোমাদেরকে তাদের উদরস্থিত বস্তু থেকে পান করাই এবং তোমাদের জন্যে তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে। তোমরা তাদের কতককে ভক্ষণ কর। (Al-Muminoon: 21)
(29) মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তান্বিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা করবেঃ আজ তোমাদের দিন, যে দিনের ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল। (Al-Anbiyaa: 103)
(30) অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি। (Al-Anbiyaa: 88)
(31) অতঃপর মনে মনে চিন্তা করল এবং বললঃ লোক সকল; তোমরাই বে ইনসাফ। (Al-Anbiyaa: 64)
(32) এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়। (Taa-Haa: 113)
(33) অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে। (Taa-Haa: 44)
(34) যখন তোমার ভগিনী এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব কে তাকে লালন পালন করবে। অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং দুঃখ না পায়। তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই; আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ান বাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে; হে মূসা, অতঃপর তুমি নির্ধারিত সময়ে এসেছ। (Taa-Haa: 40)
(35) আমি এই কোরআনে নানাভাবে বুঝিয়েছি, যাতে তারা চিন্তা করে। অথচ এতে তাদের কেবল বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়। (Al-Israa: 41)
(36) এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। (An-Nahl: 69)
(37) তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুদের মধ্যে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাদের উদরস্থিত বস্তুসমুহের মধ্যে থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্যে উপাদেয়। (An-Nahl: 66)
(38) প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে নিদশাবলী ও অবতীর্ণ গ্রন্থসহ এবং আপনার কাছে আমি স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সামনে ঐসব বিষয় বিবৃত করেন, যে গুলো তোদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। (An-Nahl: 44)
(39) যিনি সৃষ্টি করে, তিনি কি সে লোকের সমতুল্য যে সৃষ্টি করতে পারে না? তোমরা কি চিন্তা করবে না? (An-Nahl: 17)
(40) তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যেসব রং-বেরঙের বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলোতে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (An-Nahl: 13)
এতসবই অন্তর পরিশুদ্ধতার মাধ্যমে আত্ম উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র চিন্তাশীলদের চিন্তা করার বিষয়। রসূল (সা.) বলেছেন- মান আরাফা নফসহু; ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু। অর্থাৎ- যে নিজেকে চিনেছে; সে তার প্রভুকে চিনেছে। নিজেকে নিচলেই তো প্রভুকে চেনা যাবে। আর প্রভুকে চিনতে পারলেই; তার এবাদত (দাসত্ব) পরিপূর্ণ করা যাবে। ফলে মন থাকবে প্রফুল্ল, উৎফুল্ল। কোন দুচিন্তা তাকে গ্রাস করবে না। কারণ আল্লাহ গর্দানের শাহ রগ হইতে নিকটে। শুধু আমাদের তার নিকটবর্তী হওয়া প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন- “সিজদা কর ও নিকটবর্তী হও” -আল কুরআন ৯৬:১৯। নিকটবর্তী হওয়ার আদেশ। এখানে চিন্তার বিষয় হচ্ছে আল্লাহকে না চিনলে নিকটবর্তী হবে কিরূপে? আর আল্লাহকে না দেখলে চিনবেই বা কেমন করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- “হে নফছে মুতমাইন্নাতুর (শান্তিপ্রাপ্ত আত্মা)! তোমার প্রভুর নিকট ফিরে যাও। তুমি আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট এবং তিনিও তোমার উপর সস্তুষ্ট। তারপর তুমি আমার দাসত্বে প্রবেশ কর এবং আমার জন্নাতে প্রবেশ কর।“‍ সূরা- আল ফজর, আয়াত: ২৭-৩০। মোদ্দা কথা- আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া, আল্লাহর দিকে ফেরে যাওয়া, আল্লাহর দাসত্ব গ্রহণ করা ও বেহেস্তে প্রবেশ করা সবই আল্লাহর আদেশ। আল্লাহর আদেশ ফরজ (অবশ্যই করণীয় কর্তব্য)। এ অবশ্যকরণীয় আদেশগুলি জীবিত থাকতেই করতে হবে। যাহা কিছু করণীয় এইখানেই; পরকালে কিছু করার নাই; কিছুই করার নাই। পরকালে শুধু পৃথিবীর কার্যফল ভোগ করার জন্যে। অতএব, চিন্তা করুন; চিন্তা করবেন না চিন্তা ছাড়বেন।ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগুল মুবিন। জাযাকাল্লাহু খাইর।

[পুনঃ পোস্ট]

জ্বীন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ৯৯% মানুষের।

জ্বিন সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও জ্বিনের বাসস্থান

জ্বিন সম্পর্কে অলীক ভ্রান্ত মনা মানুষগুলোর অন্ত নেই।  জ্বিন সর্ম্পকে ভ্রান্ত মানুষেরা যতসব কাহিনী সৃষ্টি করেছে তার সাথে বাস্তবতার লেশ মাত্র নেই। যা দ্বারা অসাধু মানুষগণ ফায়দা লুটে যাচ্ছে।  মানুষ ও জ্বিন একত্রে বসবাস করে। আল্লাহ মানুষ ও জ্বিনকে আল্লাহর ইবাদত বা দাসত্ব করার জন্য সৃষ্টি করছেনে। আল্লাহ মানুষকে আরও একটি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, তা হলো আল্লাহর খেলাফতি করা বা প্রতিনিধিত্ব করা। অধিকাংশ জ্বিন অহংকার বশতঃ মানুষের খেলাফতী বা প্রতিনিধিত্ব স্বীকার করে না। আল্লাহর ইবাদত বা দাসত্ব করতে হলে দেহের প্রয়োজন। কাজেই জ্বিনেরাও দেহধারী। ইবাদত করতে মানুষের যে সকল অংগ প্রয়োজন জ্বিনেরও ঐসকল অংগ আছে। ইবাদত কঠিন কাজ যা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন না হলে অনেক মানুষ ও জ্বিনকে দোযখে যেতে হবে। আল্লাহ বলেন- “আর আমি বহু জ্বিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য; যাদের দিল আছে যদ্বারা তারা চিন্তা করেনা, তাদের চক্ষু আছে যদ্বারা তারা দেখে না, তাদের কান আছে যদ্বারা তারা শুনে না, তারা পশুর ন্যায় বা অধিকতর পথভ্রষ্ট, ঐ সকল গাফেল বা অমনযোগী (৭:১৭৯)। দিল চিন্তা করার মাধ্যম, তারা দিল দ্বারা চিন্তা করে কিন্তু চিন্তা করে না দিল দাতা সম্পর্কে, চক্ষু দেখিবার মাধ্যম, তারা দেখে কিন্তু দেখে না চক্ষু দাতাকে, কান আওয়াজ শুনিবার মাধ্যম, তারা শুনে কিন্তু শুনেনা কান দাতার কথা। এই গাফেলগণ বা অমনোযোগীগণের অর্ন্তভুক্ত হলো কতক মানুষ ও কতক জ্বিন। মানুষের মত জ্বিনদের অনেকেই সৎকর্ম করে থাকে; তারা আল্লাহর কুরআন পাঠ শুনে ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। আল্লাহ বলেন- “(হে মুহম্মদ) আপনি বলুন- আমার নিকট ওহী এসেছে, জ্বিনদের একদল কুরআন পাঠ শুনেছে অতঃপর তারা বলল আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি যা সরল পথ প্রদর্শন করে সুতরাং আমরা ততপ্রতি ঈমান আনলাম আর আমরা নিজ রবের প্রতি কাকেও শরীক করব না” (৭২:১-২)।

মানুষের মধ্যে একদল আল্লাহর আশ্রয় ভুলে জ্বিনের আশ্রয় গ্রহণ করে ফলে জ্বিনের অহংকার আরও বেরে যায় (৭২:৬)। কতক অসৎ জ্বিন ও মানুষ আত্মগোপনকারী খান্নাছ আত্মগোপন করে মানুষের বক্ষে কুমন্ত্রণা দেয়। (১১৪:৪-৬)

.

জ্বিনদের বাসস্থান নিয়ে অনেক ভ্রান্ত মতের সৃষ্টি হয়েছে। কুরআন মজীদে অনেকভাবেই উল্লেখ আছে যাতে বুঝা যায় মানুষ ও জ্বিন একত্রে পৃথিবীতে বাস করে। জ্বিনদের আলাদা কোন বাসস্থানের কথা উল্লেখ নেই। “এবং আমরা বুঝতে পেরেছে আমরা পৃথিবীতে আল্লাকে পরাজিত করাতে পারবো না আর না পলায়ন করে তাকে পরাভুত করতে পারবো। (৭২:১২)

অতএব, জ্বিনদের সর্ম্পকে সঠিক জ্ঞান অর্জন করার জন্য আল্লাহ সাহায্য প্রয়োজন। প্রয়োজন যারা জানে তাদের মাধ্যমে জানা। তবেই অসৎকর্মসীল জ্বিন বা খান্নাস হতে আল্লাহ আমাদের হেফাজত সহজ করবেন।

কৃতজ্ঞতায়- আমার মুর্শিদ শাহ্ বকসী জাহাগীর আলী মিঞা উয়ায়েছী।

 

 

 

ghadeer

গাদীরে খুমের ঘটনা- “মাওলা’র অভিষেক” “ঈদ-এ-গাদির”

গাদীরে খুমের ঘটনা-মাওলা’র অভিষেক-ঈদের গাদিরেখুম

বিদায় হজ্ব শেষে মদীনার পথে ১৮ জিলহজ্ব গাদিরেখুম নামন স্থানে জোহরের নামাজ এর পূর্বে হঠাৎ যাত্রা বিরতী করলেন। সেখানে একটি পুকুর ছিল। আরবী ভাষায় পুকুরকে গাদির বলা হয়। এই স্থানে নামকরণেই গাদিরে খুমরের ঘটনা। আরাফাতের (বিদায় হ্জ্ব)  দিকনির্দেশনার ভাষণে  অতি প্রয়োজনীয় যা কিছু বলা হয়নি তা বলার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন-এর নির্দেশমূলক ওহী নাযিল হলো- .[কুরআন-৫:৬৭ “হে রাসূল, আপনার প্রতিপালক হতে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন। আপনি যদি এরূপ না করেন, তাহালে আপনি তাহার (আল্লাহর) কোন প্রেরিত বার্তাই পৌছালেন না এবং আল্লাহ আপনাকে মানব মন্ডলী হতে রক্ষা করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদিগকে হেদায়েত করেন না”।]

[Quran 5:67] O Messenger! deliver what has been revealed to you from your Lord; and if you do it not, then you have not delivered His message, and Allah will protect you from the people; surely Allah will not guide the unbelieving people.

এমন কোন কিছ মানব মন্ডলীকে জানাবার জন্য আল্লাহর নির্দেশ যা তখন পর্যণ্ত বলা হয়নি এবং যা না করলে বা প্রচার না করেল আল্লাহর কোন প্রেরিত বার্তাই তিনি প্রচার করেননি বলে আল্লাহর ঘোষণা। তাই বলা বা প্রচারের জন্য গাদিরেখুমের এই আয়োজন। হজ্ব করে কাফেলায় যারা আগে চলে গিয়েছিলেন তাদের ফিরিয়ে আনা হলো এবং যারা পিছনে পড়েছিলেন তারাও এসে সমবেত হলেন। জোহরের নামাযের পর সমবেত জনমন্ডলীর গাদিরেখুমে হযরত রাসূলে করীম (ছা.) এর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিলেন এবং এই ভাষণ বিদায় হজ্বের অর্থাৎ আরাফাতের ভাষণের পরিপুরক। আরাফাতের ভাষণে রাছূলে করীম (ছাঃ) তাঁর আহলে বায়েত সম্পর্কে কিছু বলেননি। গাদিরে খুমের ভাষণে তিনি তাঁর আহলে বায়েত (হযরত আলী, হযরত ফাতেমা, হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন (আঃ) সম্পর্কে বলে গেলেন ।

গাদিরেখুমের ভাষণ-“মওলা’র অভিষেক

হযরত রাসূলে করীম (ছা.) জোহরের নামাজ শেষে উটের হাওদার উপর হাওদা স্থাপন করে জনমন্ডলীর দৃষ্টিযোগ্য একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরী করলেন। হযরত রাসূলে করীম (ছা.) তাঁর কাছওয়া উটের উপর চড়ে জনমন্ডলীর উদ্দেশ্যে বললেন- “তোমরা কি জান না আমি মুমিন ব্যক্তির জীবনের চেয়ে প্রিয়” জনতা জবাব দিলেন- নিশ্চয়ই হ্যা আমরা জানি। “তোমরা কি জান না আমি মুমিন ব্যক্তির জীবনের চেয়ে প্রিয়” জনতা জবাব দিলেন- নিশ্চয়ই হ্যা আমরা জানি। “তোমরা কি জান না আমি মুমিন ব্যক্তির জীবনের চেয়ে প্রিয়” জনতা জবাব দিলেন- নিশ্চয়ই হ্যা আমরা জানি। কথাগুলি তিনবার বললেন। তখন হযরত রাসূলে করীম (ছা.) হযরত আলী (আঃ) এর হাত উচু করে তুলে ঐ মঞ্চে বসালেন এবং বললেন- “আমি যার মওলা, আলীও তার মওলা। যে আলীকে ভালবাসে আল্লাহ তাকে ভালবাসেন – সে আলীর শত্রু আল্লাহ তার সাথে শত্রুতা করেন”।

বারা বিন আজেব এবং যায়েদ বিন আরকাম হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ খুম নামক জলাশয়ের (কুপের) নিটক থামিলেন এবং আলী (আঃ) এর হাত ধরিলেন এবং বলিলেন, “তোমরা কি জাননা আমি মু’মিনদের নিজ জীবনের চেয়ে অধিকতর প্রিয়?” সকলেই স্বীকার করিল জ্বি-হা। তৎপর রাসূল বলিলেন, “তোমরা কি জাননা আমি মু’মিনদের নিজ জীবনের চেয়ে অধিকতর প্রিয়?” সকলেই স্বীকার করিল জ্বি-হা। অতঃপর রাসূল বলিনেল, “হে আল্লাহ আমি যাহার মওলা, আলীও তাহার মাওলা। হে আল্লাহ তুমি তাহাকে বন্ধু বলিয়া গ্রহণ করা যে তাহাকে (আলী) বন্ধু বলিয়া গ্রহণ করে এবং তাহাকে শত্রু মনে কর যে তাহাকে (আলী) শত্রু মনে করে। অতঃপর ওমর (রাঃ) তাহার (আলী) স্ংগে সাক্ষাৎ করিলেন এবং তাহাকে বলিলেন, “হে আবু তালিবের পত্র তোমাকে অভিনন্দন, তুমি সকাল সন্ধ্যায় প্রত্যেক মূ,মিন পুরুষ ও  মহিলাদের মওলা” (মিশকাত)।

তৎপর হযরত রাসূলে করীম (ছা.) বলিতে থাকেন-“হে আমার উম্মতগণ, আমি হয়ত আর বেশী দিন দুনিয়াতে থাকবনা, আমি তোমাদের হেদায়েতের জন্য দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, উহা যদি তোমরা শক্ত করে ধরে রাখ তবে কখনও পথ ভ্রষ্ট হবে না, একটি আল্লাহর কিতাব এবং অন্যটি আমার আহলে বায়েত আমার পরিজন।

“যাবের হইতে বর্ণিত- হে লোকজন আমি তোমাদের মধ্যে কিছু জিনিস রাখিয়া যাইতেছি, যদি উহা তোমরা ধরিয়া রাখ, কখনও বিপথগামী হইবেনা আ্ল্লাহর কিতাব এবং আমার পরিজন আহলে বায়েত” (মিশকাত) হযরত আলী, হযরত ফাতেমা, হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন (আঃ)।

যায়েদ বিন আরকাম হইতে বর্ণিত আয়ে, রাসূলুল্লাহ বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মদ্যে রাখিয়া যাইতেছি এমন দুইটি জিনিষ যাহা যদি তোমরা আকড়াইয়া ধর, আমার পরে তোমরা কখনও বিপথগামী হইবেনা। দুইটির মধ্যে একটি অপরটি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর, আল্লাহর কিতাব আকাশ হইতে পৃথিবী পর্যন্ত ঝুলন্ত রশি এবং আমার পরিচন আমর আহলে বায়েত কখনও পৃথক হইবে না হাওজে (কাওছার) পৌছানো পর্যন্ত। অতএব দেখ, কি প্রকারে তাহারে বিষয়ে আমার সংগে পার্থক্য ঘটাইবে (মিশকাত)।

রাসূলের এই হাদীসের পাশাপাশি আরও একটি মুরসাল হাদীছের উল্লেখ আছে- যাহার সংক্ষেপ “আমি তোমাদের মধ্যে কিছু জিনিস রাখিয়া যাইতেছি যাহা শক্ত করিয়া ধরিয়া থাকিলে পথহারা হইবেনা। উহাদের একটি আল্লাহর কিতাব অন্যটি আল্লাহর রাসূলের সুন্নত”।  অনেকেই এই হাদীসটি পূর্বোক্ত হাদীছের বিপরীত বলিয়া গণ্য করেন। এব্যপারে পর্যালোচনা প্রয়োজন।  সুন্নাত কি? আল্লাহরও সুন্নাত আছে- “আল্লাহর সুন্নাত ঐ সকল লোকদের মধ্যে যাহারা পূর্বে গত হইয়াছে এবঙ আপনি আল্লাহর সুন্নাতে পরিবর্তন পাইবেননা”। ৩৩:৬২ (৩৩ নং সূরা আজহাব ৬২ আয়াত।  আরো অনেক আয়াতেই আল্লাহর সুন্নাতের কথা আছে। অনুধাবন করতে হবে ‘রাসূলের সুন্নাত’ ‘রাসূলের হাদীছ’ সমার্থক নহে। উভয়ের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মনে রাখতে হবে ‘সুন্নত’ আভিধানিক অর্থ নিয়ম, নীতি, পদ্ধতি, প্রথা, অভ্যাস ইত্যাদি। উপরোক্ত আয়াতসমূহ হইতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ‘আল্লাহর সুন্নাত’ অর্থ  আল্লার নীতি যাহা পরিবর্তন হয়না। অপর পক্ষে ‘হাদীছ’ শাব্দিক অর্থ কথা। ব্যবহারিক অর্থে মুহাম্মদ (ছাঃ) এর কথা। ‘হযরত মুহাম্মদ (ছাঃ) কথা বলেছেন- ছাহাবীদের সঙ্গে, নও মুসলিমদের সঙ্গে, মুমিনের সঙ্গে, কাফিরের সঙ্গে, মুনাফিকের সঙ্গে, বিধর্মীর সঙ্গে, বৃদ্ধার সঙ্গে, বালকের সঙ্গে, নাবালকের সঙ্গে, শিশুর সঙ্গে, নিজ স্ত্রীদের সঙ্গে, ক্রেতার সঙ্গে,  বিক্রেতার সঙ্গে,   দাসের সঙ্গে,  বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন প্রসঙ্গে, এমনকি বিশষজনের সঙ্গে গোপন কথাও বলিয়াছেন। সকইল কথা, সকলই হাদীছ। তাই স্থান, কাল, পাত্রভেদে হাদীছ ব্যবহার খুবই জটিল। হাদীছ ব্যাপক। উমাইয়া খিলাফত কালে উমায়ইয়াগণের হাশিম বংশীয় মুহম্মদ (ছাঃ)  এবং তাঁহার পরিজনের প্রতি বংশীয় বিদ্বেষের সুযোগে ধূর্ত ঈহুদী পন্ডিগণ ইসলামে অনর্থ সৃষ্টির হীন উদ্দেশে ধর্মাবরণে বেশ কিছু হাদীছ সৃষ্টি করিয়াছে। ইহার সঙ্গে যোগ ছিল  মুহম্মদ (ছাঃ)  এবং তাঁহার পরিজন বিরোধী খারেজী বা ওহাবী সম্প্রদায়ের। এমতাবস্থায় হাদীছ নিরূপন করা খুবই দুর্বোধ। এই দুর্বোধতা বা জটিলতা নিরসনের একমাত্র মাপকাঠি আল্লাহর কিতাব অর্থাৎ কুরআন মজীদ। রাসূলে সমগ্র জীবনটাই কুরআন মজীদের ব্যাখ্যা তাই সঠিক হাদীছ কুরআনের সম্পূরক। কুরআন-মজীদের নীতি বিরুদ্ধ হাদীছ ঘৃণাভরে পরিত্যাজ্য। আল্লাহর কথা রাসূলের কথাকে মনসুখ (রহিত) করিতে পারে কিন্তু রাসূলের কথা আল্লাহর কথাকে মুনসূখ করতে পারেনা।

পরিশেষে গাদিরেখুমের আয়োজন হযরত রাসূলে করীম (ছা.)’র পরবর্তী মওলার অভিষেক অনুষ্ঠান হিসাবে স্মারণীয়। তাই হযরত আলী (আঃ)’র অনুরাগী ভক্তগণ দ্বাদশ হিজরীর ১৮ জিলহজ্বকে “মাওলা’র অভিষেক” অনুষ্ঠান দিবস হিসাবে পরম ভক্তিসহকারে স্মরণ ও প্রতিপালন করে আসছেন।

হযরত ওমর (রাঃ) ব্যাপরটা পুরোপটি বুঝেই সেদিন উৎসাহ সহকারে হযরত আলী (আঃ)’কে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

সহায়ক গ্রন্থ-

১। বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (ছা.) ও তাঁর আহলে বায়েত —লেখক- অধ্যক্ষ এস এম আবুল হুসাইন উয়ায়সী (র.)।
২। মুহম্মদ মুস্তফা (ছাঃ), লেখক-মুহম্মদ মুহসিন খান (র.) উয়ায়ছী।
৩। ওয়েব- http://duas.org/ghadir.htm

নামাজ বুঝে নিও

–  শাহ্  আশেক মুর্শেদ (সুজন) উয়ায়েছী

লোক দেখানো নামাজ আমি পড়িনা
বাড়িতে গিয়া নিরালায় বসিয়া থাকি না।
তুমি তো নামাজ পড়িয়া আসিলা                          প্রতি লাইনের শব্দার্থসমূহ:-
তবে কেন জিন্দেগী ফাফরে কাটাইলা?              [জিন্দেগী – জীবনভর]
নামাজের কাম তোমার ফাফর কাটানো              [ফাফর – অস্থির]
তাহা যদি নাহি হয়,মসজিদে শুধুই বেড়ানো!

পাঁচ ওয়াক্তে আমি নামাজ পড়বো বটে               [ওয়াক্ত – সময়]
যে নামাজে আল্লাহর মেরাজ ঘটে                        [মেরাজ- সাক্ষাত]
স্মরণে নামাজ হইলে দূর হবে ফাহেসা                 [ফাহেসা- অশ্লীলতা]
মুনকার দূরে হবে হামেসা হামেসা।                     [মুনকার- বদ কাজ; হামেসা- সর্বদা]

তোমার নামাজে দেখি বড় বেশী চাপ
আশি হকবা দোজখ তবু নামাজ হবে না মাফ।        [হকবা- শাস্তির একটি পরিমাপ]
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যাহা ফরজ এতায়েতে            [এতায়েত- তাবেদারী, অনুসরণ]

রাসূল পড়েছেন, আমরা পড়বো একসাথে।
এ নামাজে যাহা তুমি আমি পড়ি
তাহা যেন বুঝি, আর তাহা যেন করি।

এবং আমার স্মরণের জন্য কায়েম কর নামাজ’ 1
দাড়িয়া, বসিয়া, কাতভাবে শুইয়া আল্লাহকে স্মরণের কাজ 2   [স্মরণ- মনেকরা, দেখা ]
কেমনে আল্লাহর স্মরণ তালিমে শিখিবে।                   [তালিমে –শিক্ষা, ট্রেইনিং]
আল্লাহর নাম বহু; তাহা বলিলে,3
নামের স্মরণ হবে শুধু, এখনই জানিলে।
শুধু আল্লাহকেই স্মরণের হুকুম,
দেখ না আয়াত “ ফাজকুরুনী আজকুরুকুম..” 4                 [তোমরা আমাকেই স্মরণ কর
আল্লাহকে স্মরণ হইবে কি উপায়ে?                           আমিও তোমারদের স্মরণ করিব]

কোরআনে উপমা আছে, যেভাবে বাপ-দাদা স্মরণে 5
তবে তো দায়েমী নামাজ হইবে হাছিল                              [দায়েমী – সবসময়, সর্বদা]
দায়েমী নামাজের হুকুম, খাস কুরআনে নাজিল। 6

নামাজের সাথে হবে যাকাতের কাজ                                  [যাকাত – পবিত্রতা]
যাকাতের মানে কি বুঝিলাম আজ।
সমাজে এহি কথা খুব শুনা জানা-
সকলেই যাকাত দিলে গরীব থাকিবে না।
গরীব না থাকিলে তুমি যাকাত দিবে কাকে!
শ্রেষ্ঠ সম্পদ পবিত্র হবে যাকাতে, * ছদকায় অপারগ হইলে আল্লাহর হুকুম যাকাতে * ৫৮:১২-১৩
নামাজের সাথে যাকাত করতে হবে; বহু হুকুম আল্লাহর আয়াতে।
রাসূলের জ্ঞান শহরে দরজা, হযরত আলী হতে যারা;
ইহকাল ও পরকালে শান্তি-বানী পেয়েছে ও বিলাইতেছে তারা-
আমার মুর্শিদ শাহ্ অধ্যক্ষ আবুল হুসাইন উয়ায়ছী (রহঃ) হইতে,
আমি আশেক মুর্শেদ উয়ায়ছী-                                 [উয়ায়ছী- একটি আদি তরিকার নাম]
আল্লাহর রংয়ে রঞ্জিত হওয়ার পথে নেমেছি।
তুমিও রঞ্জিত হইবে কেউ রং চিনাইলে
রহমে আল্লাহ আর সহায় আল্লাহ হইলে।।

[উয়ায়ছী- একটি আদি তরিকার নাম]
( রাসূল (ছা.) এর অনুগতদের শ্রেষ্ঠ ও খেরকা (গায়ের জামা) প্রাপ্ত
হযরত উয়ায়েছ করণী (রহ.) হতে যে তরিকাহ্ আদি হতে প্রচারিত
তাই ‘উয়ায়েছী তরিকাহ্’ নামে খ্যাত। )

 

বি: দ্র: (1) 20:14 (2) 3:191 (3) 17:110 (4) 2:152 (5) 2:200 (6) 70: 22-23